একুয়া নিউজ
বাংলাদেশে একুশ শতকের লাগসই মৎস্য প্রযুক্তি বিকাশে

তেলাপিয়ার ফ্রোজেন ও পিলেট রপ্তানীই উৎপাদন ব্যবসাকে ঠিকিয়ে রাখতে পারে।

লেখকঃ নিজস্ব প্রতিবেদক    2017-10-15 14:25:12    Visited 1301 Times

কর্মশালায় বক্তব্যরত দি ওয়ার্ল্ডফিশ সেন্টার টেকনিক্যাল স্পেশালিষ্ট জনাব মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান

দি ওয়ার্ল্ডফিশ সেন্টার কর্মশালায় বক্তাদের অভিমত :  তেলাপিয়ার ফ্রোজেন ও পিলেট রপ্তানীই উৎপাদন ব্যবসাকে ঠিকিয়ে রাখতে পারে। মৎস্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা ও প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দি ওয়ার্ল্ডফিশ  সেন্টার খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে সেইন্ট বাংলাদেশ মিলনায়তনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত “ইউএস এআইডি, এআইএন, দি ওয়ার্ল্ডফিশ সেন্টার ইউথ তেলাপিয়া হ্যাচারিজ এন্ড সার্ভিস প্রোবাইডার আইডেনটিফাই এরিয়ার্স ফর ফিউচার স্কেলিং এন্ড সাসটেইনিব্যালিটি” শীর্ষ্ক কর্মশালায় বক্তারা উপরোক্ত অভিমত প্রকাশ করেন। দি ওয়ার্ল্ডফিশ সেন্টার বাংলাদেশ এর উর্দ্বতন কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মাদ জিল্লুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত কর্মশালায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, গোপালগঞ্জ, সাতক্ষিরা, খুলনা প্রভৃতি অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন তেলাপিয়া হ্যাচারি সমূহের মালিক, তেলাপিয়া মাছ চাষি, মৎস্যখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং মৎস্য হ্যাচারি সমূহে উৎপাদন কাঁচামাল ও রাসায়নিক দ্রব্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগন উপস্থিত ছিলেন।

উক্ত কর্মশালায় বক্তাদের বক্তব্যে তেলাপিয়া হ্যাচারি সমূহে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো আলোচনা করেন। বক্তরা বলেন, বহু চড়ায় উৎরাই পেরিয়ে তেলাপিয়া মাছ চাষ ও্র উৎপাদন ব্যবসা আজ বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। চাইনা, ইন্দোনেশিয়া ও মিশরের পর তেলাপিয়া মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ্। অচিরেই মিশরকে পেছনে ফেলে তৃতীয় স্থানে উঠে আসবে বাংলাদেশ। কর্মশালায় শুরুতেই দি ওয়ার্ল্ডফিশ সেন্টারের কারিগরী বিশেষজ্ঞ জনাব মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বলেন, মৎস্যজীবিদের সার্বিক উন্নয়নে বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনাকারী ও মৎস্যপ্রযুক্তি সরবরাহকারী আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান দি ওয়ার্ল্ডফিশ সেন্টার বাংলাদেশে ৮টি কোহট এর মাধ্যমে গুণগতমান সম্পন্ন ইনব্রিডিংমুক্ত তেলাপিয়া ব্রুড মাছ সরবরাহ করছে যা একোয়াকালচার ফর ইনকাম এন্ড নিউট্রিশন (এ.আই.এন) এর আওতায় মালয়েশিয়ার জিত্রা ষ্টেশন থেকে আমদানিকৃত গিফট তেলাপিয়ার সর্বশেষ প্রজন্ম। যা থেকে বর্তমানে সারা দেশে ১৫০টির অধিক তেলাপিয়া হ্যাচারী উন্নতমানের মৎস্য পোনা উৎপাদন করছে। উৎপাদিত এসব তেলাপিয়া মাছের পোনা থেকে খামারী পর্যায়ে মাছ চাষের আন্তর্জাতিক মানদন্ড বজায়রেখে তেলাপিয়া মাছ উৎপাদন করছে। কর্মশালায় উপস্থিত তেলাপিয়া হ্যাচারীর মালিক ও উদ্যোক্তাদের বক্তব্যে তেলাপিয়া মাছের পোনা উৎপাদনের ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্য নিয়ে বিভিন্ন ধরনের হতাশা ব্যক্ত করেন। হ্যাচারী মালিকগণ অভিমত দেন, স্থানীয় বাজার চাহিদা মিঠিয়ে তেলাপিয়া মাছ বা তেলাপিয়া মাছের হিমায়িত পিলেট বিদেশে রপ্তানী প্রক্রিয়াকরনের ব্যবস্থা সৃষ্টি না হলে দ্রুতপ্রসারমান এই ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া দূরহ হয়ে উঠবে। বক্তারা দি ওয়ার্ল্ডফিশ সেন্টার কর্তৃক সরবরাহকৃত উন্নত প্রজাতির গিফট তেলাপিয়া ব্রুড মাছের পোনা ও চাষপ্রযুক্তি চাষীদের দোরগোড়ায় পৌছে দেওয়ায় প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও সহায়তা চালু রাখার অনুরোধ জানান।


কর্মশালায় বক্তব্যরত “একোয়ানিউজ২৪” সম্পাদক ও প্রকাশক, মোস্তফা আসাদুল্লাহ চৌধুরী।

কর্মশালায় স্পেনের তৈরী সাসকোইসা ব্র্যান্ডের হরমোন বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ইউরেকা মার্কেটিং কোম্পানী, ইয়ন এনিম্যাল হেলথ লিঃ, এসকে. এফ, এসিআই এনিম্যাল হেলথ, অল ওয়েল মার্কেটিং, স্পেট্রাহেঞ্জা-মেঘা ফিড, লিলিফিড, পেরাগন ফিড প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

User Comments: