একুয়া নিউজ
বাংলাদেশে একুশ শতকের লাগসই মৎস্য প্রযুক্তি বিকাশে

সম্বাবনার নতুন খাত, বিদেশে রপ্তানীযোগ্য তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস পিলেট।

লেখকঃ ড. মাহফুজুল হক রিপন    2016-11-13 21:58:37    Visited 5625 Times

. মাহফুজুল হক রিপন : কয়েক দিন আগে আমরা নরওয়ের বারগেনে এসেছি সুপার মার্কেটে মাছ কিনতে যেয়ে

একোয়াকালচার ষ্ট্যুয়ার্ডশিপ কাউন্সিল (এএসসি)’ কর্তৃক সার্টিফাইড পাঙ্গাস ফিলেট পেলাম যা ভিয়েতনাম থেকে আমদানীকৃত আমার মেয়ের (তাসফিয়া হক জয়িতা) প্রিয় খাবার মুরগীর মাংস, কিন্তু এখানে পাঙ্গাস ফিলেট তার খুব প্রিয় হয়ে উঠেছে সেজন্য গতকালও তাকে নিয়ে বাজার থেকে পাঙ্গাস কিনতে হয়েছে এখানে ৮০০ গ্রাম পাঙ্গাস ফিলেট প্যাকেটের দাম প্রায় ৭০ μোন, সে হিসাবে কেজি পাঙ্গাস ফিলেটের দাম বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৮৭৫ টাকাভিয়েতনামী পাঙ্গাস ইউরোপের অন্যতম ধনী দেশ নরওয়ের জনগন উচ্চ দামে কিনে খাওয়ার কারণ হচ্ছে ভিয়েতনামী চাষীরা এএসসি সার্টিফিকেশনের আওতায় একটি মানদন্ড অনুসরণ করে পাঙ্গাস উৎপাদন করছে নিঃসন্দেহে ভিয়েতনামের পাঙ্গাস চাষীরা এতে অনেক লাভবান হচ্ছেন

এএসসি মানদন্ডের নাম পাঙ্গাসিয়াস একোয়াকালচার ডায়লগ বা প্যাড স্ট্যান্ডার্ড এটি তৈরীতে পৃথিবীর অনেক দেশের মত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী, মৎস্য চাষী, উনড়বয়ন কর্মী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের ভূমিকা রয়েছেবাংলাদেশকে কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরী করেছিলেন আমার শ্রদ্ধেয় পিএইচডি সুপারভাইজর প্রফেসর . ডেভিড লিটিল, এবং প্রফেসর . মোঃ আবদুল ওহাব স্যার প্যাড স্ট্যান্ডার্ড তৈরীর মূল নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ব সার্টিফিকেশন বিশেষজ্ঞ ডবিওডবিওএফ- এর . ফ্ল্যাভিও করসিন, এবং বিশ্বব্যাপি এর আটটি ওয়ার্কিং গ্র ছিল, একটির নেতৃত্বে ছিলাম আমি বাংলাদেশের বিভিনড়ব অঞ্চলের পাঙ্গাস চাষী, হ্যাচারী মালিক, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, মৎস্য গবেষণা ইনিস্টিটিউটের বিজ্ঞানীসহ অনেককে নিয়ে আমরা ডায়লগ করেছি, সংগ্রহ করেছি গুরুত্বপূর্ণ মতামত তথ্য একই ভাবে ভিয়েতনামে বিস্তৃত পরিসরে ধরনের ডায়লগ সম্পনড়ব হয়, এর সাথে আমি বাংলাদেশের তথ্য সংযোজন করতাম ব্যক্তিগতভাবে ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্যাড স্ট্যান্ডার্ড তৈরীতে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রচুর সময় দিয়েছি মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে আমার তৎকালীন এম এস ছাত্র হযরত আলী ছাত্রী পলি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল অত্যন্ত সন্মানের বিষয় হলো এএসসি প্যাড স্টন্ডার্ডের কভার পেজে মুক্তাগাছার মৎস্যখাদ্য ব্যবসায়ী জহির ভাইয়ের কাছ থেকে আলী, পলি, আমার তথ্য সংগ্রহের একটি ছবি দেয়া হয়েছে (http://www.asc-aqua.org/…/ASC%20Pangasius%20Standard_v1.0.p…) আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ দলিল এএসসি প্যাড স্টন্ডার্ডের পেছনের পৃষ্ঠায় পৃথিবীর ১৭ জন মূল অবদানকারীদের মধ্যে আমার মত একজন সামান্য ব্যক্তির নাম তালিকাভূক্ত হয়েছে, এএসসি আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে, সাথে আমার সবচেয়ে প্রিয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামটি যুক্ত হয়েছে আমরা বাকৃবি প্যাড স্ট্যান্ডার্ড ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলাম

 

প্যাড ডায়লগের মূল কাজ ছিল চাষী পর্যায়ে, যেখানে বাংলাদেশ মৎস্য চাষী সমিতির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ ভাই অত্যন্ত প্রসংশনীয় ভূমিকা রেখেছেন উলেখ্য  যে প্যাড স্ট্যান্ডার্ড তৈরীতে তৎকালীন বিএফআরআই-এর ডিজি . গোলাম হোসেন স্যার, এগ্রো- এর বাদল ভাই, রিলায়েন্স একোয়া ফার্মের রিতিশ দা স্বর্ণলতার বন্ধু কাদের তরফদারের  সক্রিয় অংশগ্রহন ছিল এক পর্যায়ে সাজ্জাদ ভাইসহ আরও জন পাঙ্গাস চাষীকে তাদের নিজ খরচে ভিয়েতনামে যেতে আগ্রগী করে তুলি, এবং তাদেরকে নিয়ে ভিয়েতনামে প্যাড ডায়লগ ক্যাটফিস সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহন করিসিম্পোজিয়ামে প্রফেসর . আলী রেজা ফারুক স্যার, সাজ্জাদ ভাই আমি  বাংলাদেশের পাঙ্গাস চাষের অবস্থা তুলে ধরি উপস্থাপনার পর দেখলাম বাংলাদেশের পাঙ্গাস সম্পর্কে আন্তর্জাতিক বিশ্ব তেমনটা অবগত নয়বিশ্ববাসীকে জানানোর জন্য সবচেয়ে ভাল মাধ্যম হলো প্রভাবশালী জার্নালে পাবলিকেশন বন্ধু বেন বেল্টন এমএস ছাত্র হযরত আলীকে নিয়ে একটি পেপা ফুড পলিসি জার্নালে (http://www.sciencedirect.com/…/article/pii/S0306919210001417) এবং অন্যটি একোয়াকালচার রিসার্চ জার্নালে  প্রকাশ করতে সমর্থ হই পেপার দুটি পৃথিবীর বহুজন পাঠ করেন যা আমরা রিসার্স গেট বা গুগল সাইটেশস ইনডেক্সে দেখতে পাই মাঝে মধ্যে এই ভেবে ভালো লাগে যে দেশকে একোয়াকালচার দিয়ে হলেও কিছুটা পরিচিত করতে পেরেছি এখন আরও ভালো লাগলো নরওয়েতে এএসসি সার্টিফাইড পাঙ্গাস পেয়ে, যেখানে আমরা অনেকে শ্রম মেধা প্রয়োগ করেছিলাম ভালো লাগা থেকে আজকের লেখা

 

ভিয়েতনাম রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ ইত্যাদি কারনে পাঙ্গাস রপ্তানি অনেক আগে থেকে শুরু করতে পেরেছে সম্প্রতি আমাদের দেশেও কয়েকজন উদ্যোগতা পাঙ্গাস প্রসেসিং প্লান্ট স্থাপন করেছেন এবং প্রসেসিং কার্যক্রম  শুরু করেছেন আশা করা যায় বাংলাদেশের পাঙ্গাস এএসসি সার্টিফিকেশন বা অন্য কোন কাস্টমাউজড সার্টিফিকেশনের আওতায় উৎপাদিত হয়ে বিশ্ব বাজারে স্থান করে নিবে সেক্ষেত্রে তেলাপিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের মত বিভিন্ন রকম স্থানীয় বৈশ্বিক বাধা আসতে পারে সেজন্য আমাদের সকলকে মিলে কাজ করতে হবে, গতানুগতিক গবেষণা থেকে বের হয়ে একোয়াকালচারের স্থানীয় বৈশ্বিক ইস্যুগুলোকে বিবেচনায় রেখে গবেষণা করতে হবে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একোয়াকালচারকে একটি বিশেষ ক্ষেত্র হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে এর উপর বিশ্বমানের গবেষণা পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে এতে করে দেশের প্রয়োজনীয় প্রাণীজ প্রটিন চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানীযোগ্য তেলাপিয়া পাঙ্গাস পিলেট উৎপাদন ব্যবসা বিকাশলাভ করবে

 

লেকখ : প্রফেসর, মৎস্য বিজ্ঞান বিভাগ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যারয়, ময়মনসিংহ

User Comments: