একুয়া নিউজ
বাংলাদেশে একুশ শতকের লাগসই মৎস্য প্রযুক্তি বিকাশে

সাম্প্রতিক কালে তেলাপিয়া সংক্রান্ত সামাজিক মাধ্যমে উদ্দেশ্য প্রনোদিত অপপ্রচার প্রসঙ্গে

লেখকঃ ড. মোহাম্মদ গোলাম হুসাইন   2018-03-17 17:09:03    Visited 3411 Times

বাংলাদেশ তথা পৃথিবীর কোন দেশেই খামারে উৎপাদিত তেলাপিয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ত নয়ই বরং অন্যান্য প্রানীজ প্রোটিনের চেয়েও গুনগতমানে অত্যান্ত সম্মৃদ্ধ ও সুস্বাদু-

সাম্প্রতিক কালে বিভিন্ন গন মাধ্যমে তেলাপিয়া সংক্রান্ত একটি উদ্দেশ্য প্রনোদিত নেতিবাচক অপপ্রচার আমাদের নিকট দৃষ্ঠিগোচর হচ্ছে। গত ১২ অক্টোবর ২০১৫ ইং তে হেলথি হউজ শিরোনামে একটি আমেরিকান ব্লগ ইন্টারনেটে অতিসত্বর তেলাপিয়া মাছ খাওয়া বন্ধ করার পরামর্শ দেন। সংশিষ্ট ব্লগ টি এই পরামর্শের পিছনে এই বলে যুক্তি প্রদর্শন করেন যে, আমেরিকার তৃতীয় বৃহত্তম সর্বাধিক জনপ্রিয় মাছ তেলাপিয়া মার্কিন জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কেননা এর বেশীরভাগই চীন থেকে আমদানিকৃত এবং উক্ত মাছ চাষের ক্ষেত্রে চীন জনস্বাস্থ্য হিতকর প্রযুক্তি/পদ্ধতি( Good Aquaculture Practice) ব্যবহার না করে বরং খারাপ চাষ প্রক্রিয়া ( Bad Practice)) অনুসরন করে আসছে।একইভাবে Personal Advisory নামের অপর একটি আমেরিকান ব্লগ এই বলে অপপ্রচার চালায় যে, খামারে চাষকৃত তেলাপিয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

এ ধরনের অপপ্রচার এর পিছনে এরূপ অপর একটি প্রতিষ্ঠান এই বলে আরো যুক্তি প্রদর্শন করেন যে, খামারে চাষকৃত তেলাপিয়ায় যে সকল স্বাস্থ্য ঝুকি রয়েছে তা নিম্নরুপ-

১. উচ্চ মাত্রায় ডক্সিন ২. উচ্চ মাত্রায় বালাইনাশক ও এন্টিবায়োটিক ৩. ওমোগা-৩ এর তুলনায় ওমেগা-৬ এর মাত্রাধিক্য ৪. ক্যান্সার সৃষ্ঠিকারী উপাদানের উপস্থিতি ইত্যাদি

এবার প্রত্যেক্ষ করা যাক তেলাপিয়া পুষ্টি সম্পর্কে বিভিন্ন গবেষনাপ্রতিষ্ঠানের অর্জিত জ্ঞান ও নিদের্শনা যা আমাদেরকে তেলাপিয়ার প্রকৃত স্বরুপ উদ্ঘাটনে সহায়তা করবে।

১. তেলাপিয়ায় রয়েছে অত্যান্ত সুষম প্রোটিন যাতে রয়েছে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের এমাইনো এসিড যা মানব শরীর গঠনে অতান্ত গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখে। এ প্রোটিনের জৈবিক মান (Biological Value (BV-75%)  অত্যান্ত উর্চ্চ পর্যায়ের।

২. তেলাপিয়ায় ওমেগা-৬ ও ওমেগা-৩ এই দু ধরনের ফেটি এসিডই রয়েছে। মানব দেহের জন্য এদু ধরনের ফেটি এসিডেরই প্রয়োজন রয়েছে কেননা ওমেগা-৩ হৃদরুগ, প্রদাহ, রক্তের জমাট বাধা ঝুকি কমাতে সহায়তা করে তদরূপ ওমেগা-৬ শিশুদের মস্তিস্ক গঠন তথা ডায়াবেটিস্ ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ ও মাতৃগর্ভে শিশুর দেহ গঠনে বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখে। তবে এ ক্ষেত্রে পুষ্ঠি বিজ্ঞানীরা বয়স, ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় রেখে ভারসাম্য অর্থাৎ সুষম খাদ্য গ্রহনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। প্রাণীজ প্রোটিনের উৎস পর্যালোনা করলে দেখা যায় যে,সকল প্রানীর মধ্যেই এই দুধরনের ফ্যাটি এসিড ভিন্নভিন্ন মাত্রায় বিধ্যমান। তবে আমাদের বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় এনে এর গ্রহন মাত্রা নির্ধারণ করতে হবেমানবদেহের জন্য

ওমেগা-৩ ও ওমোগ-৬ এ দু ধরনের ফেটি এসিডের প্রয়োজন রয়েছে।এ ছাড়া Wash- out পদ্ধতিতে অর্থাৎ তেলাপিয়া ফিড সাপ্লিমেন্ট এ ফ্লেক্স সিড,চিনা, পারিলা সিড প্রয়োগের মাধ্যমে এর ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ করা যায়।

৩. তেলাপিয়া যথেষ্ট পরিমান ভিটামিন এ, , ডি, বি১, বি২..বি১২, ফলিক এসিড, এসকরভিক এসিড, সেলোনিয়াম রয়েছে যার এন্টি অক্সিডেন্টের মত প্রভাব ফ্রি রেডিক্যাল নিয়ন্ত্রন করে ক্যান্সার প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

৪. তেলাপিয়ার মধ্যে প্রচুর পরিমান ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও পটাশিয়াম রয়েছে যা অস্থি গঠনে ও রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রন তথা হার্টকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

৫. মার্কিন যুক্তরাষ্টের অত্যান্ত জনপ্রিয় মাছ যমন- প্রোপার, ন্সেপার, ব্লেক রুপচাঁদা, টোনা, পার্চ, মাহি মাহি ইত্যাদি মাছে সহনশীল মাত্রার চেয়ে অনেক বেশী পরিমান মার্কারী রয়েছে অপরদিকে তেলাপিয়ার মধ্যে সহনশীল মাত্রার চেয়েও অনেক কম মাত্রায় মার্কারী রয়েছে বিধায় তা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যান্ত উপযোগী।

অন্যান্য মাছের সহিত তুলনমূলক তথ্য, উপাত্ত বিশ্লেষন করে এ বিষয়টি প্রতিয়মান হয় যে, তেলাপিয়া পুষ্টিমানের দিক থেকে স্বাস্থ্যের জন্য অত্যান্ত উপযোগী ও সুস্বাদু। মানব দেহের জন্য অন্যান্য উৎস থেকে আহরণকৃত প্রোটিন যেমনঃ- গরু,শুকর,চিংড়ি ইত্যাদি অত্যান্ত স্বাস্থ্য ঝুঁকি পূর্ন। তাই বর্তমান পশ্চিমা বিশ্বে একটি শ্লোগান প্রচলিত রয়েছে, Go for fins not for legs. অথাঁৎ প্রানীজ প্রোটিন এর মধ্যে মাছ স্বাস্থ্যের জন্য অন্যান্য প্রানিজ প্রোটিনের চেয়ে অনেক নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও তেলাপিয়া বিশ্ববাজারে গুরুত্বপূর্ন স্থান দখল করে আছে। আমেরিকা, কানাডা ও ইউরোপে এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়ে যাওয়ার দরুন যেরুপ রপ্তানি বাজার যেরূপ প্রাসারিত হচ্ছে তদরুপ দেশের অভ্যান্তরে ক্রমবর্ধমান চাহিদাও বেড়েই চলেছে কেননা মাছটির তুলনামূলক কম বাজার মূল্য থাকার দরুন সমাজের সকল শ্রেনীর মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মরধ্যেয়ছে। তাই তেলাপিয়া Tilapia is rich men protein as well as poor men protein- The fish of 21st Century হিসেবে ইতিমধ্যেই আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। প্রযুক্তি বিবেচনায় ও মাছটি লাগসই প্রযুক্তি থেকে শুরু করে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাষাবাদ করা সম্ভব। অর্থাৎ সাধারণ পুকুরে চাষাবাদ থেকে বায়োফ্লক প্রযুক্তি পর্যন্ত ব্যাবহার করা যায়। তেলাপিয়া Sustainable Aquaculture এর একটি উৎকৃষ্ঠ উদাহরণ।অধিকিন্তু প্রতি কেজি তেলাপিয়া উৎপাদনে নাইট্রোজেন ও ফসফরাস নির্গমন (Emission) পরিমান তুলনামূলকভাবে মুরগ, গরু ও শুকুরের তুলনায় অনেক ( Tilapia : A nutritious , Environmentally Friendly Fish, The Fish Site, 21, December 2015)

উপরোক্ত আলোচনায় এ বিষয়টি স্পষ্টই প্রতিয়মান হয় যে, তেলাপিয়া সম্পর্কিত ইন্টারনেটে উপরোল্লিখ নেতিবাচক প্রচার উদ্দেশ্য প্রনোদিত। এইরুপ অপপ্রচারের কতটুকু যোক্তিক ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষনেই আমাদের আলোচনার প্রতিপাদ্য বিষয়। বর্তমান বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্যের ভাবনাই সমাজের বিভিন্ন পেশাজিবি তথা সাধারন মানুষের নিকট অত্যান্ত গুরুতবহন করছে। সাম্প্রতিক বিশ্বে কৃষিপ্রযুক্তি উন্নয়ন সফতলার কারনে যেভাবে বেড়ে চলেছে কৃষি তথা খাদ্য উৎপাদন তদরূপ পুষ্টিমান ও সুসম খাদ্য নিয়ে বিশ্ব ব্যাপি চলছে নিরন্তর গবেষণা আর বেড়ে উঠছে গনসচেতনতা। তাই বরাবরই আজকাল মানুষ জানতে আগ্রহী কি ধরনের পুষ্ঠিগ্রহন তাঁর শরীরকে নিরোগ ও সুস্থ রাখবে। এর ফলশ্রতিতে ইন্টারনেট খুললেই আমরা দেখতে পাই অসংখ্য ওযেভ সাইট, গবেষনা পত্র, বিজ্ঞাপন ও তথ্য বিনিময় চর্চা (Cyber Sharing Practice) ইত্যাদি,

যা প্রতি নিয়তই মানুষের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ ও সচেতন করছে। তবে একা ও সত্য যে, কেউ কেউ আবার উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে এবং একটি গোষ্ঠি স্বার্থ সংরক্ষনে মানুষকে প্রতিনিয়তই বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে তথ্য বলয়ে প্রতিনিয়ত Cyber bullying এ লিপ্ত। তার একটি প্রমান হচ্ছে উপরে উল্লেখিত ব্লগ দুইটির তেলাপিয়া সংক্রান্ত অপপ্রচার।

সুপ্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার সাথে তেলাপিযা চাষের সংশ্লিষ্টতার প্রমান মেলে। এরপর এ আত্যাধুনিক তথা সাম্প্রতিক বিশ্বে তেয়াপিয়া নিয়ে ভাবনা ও গবেষণা তেলাপিয়াকে বিশ্বে জনপ্রিয়তার প্রায় শীর্ষ স্থানে অধিষ্টিত করেছে। ফলশ্রতিতে আফ্রিকার মাছ তেলাপিয়া এশিয়া, ইউরোপ তথা আমেরিকায় সবচেয়ে জনপ্রিয়তা তথা চতুর্থ স্থান অর্জন করেনিয়েছে (National Fisheries Institute, USA, FoxNews.com, April 09, 2014) । ইতিমধ্যে চীন, মিশর, ফিলিফাইন,ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ তথা প্রায় গোটা এশিয়া,ল্যাটিন আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্রেএর চাষ প্রযুক্তি ওউৎপাদন এবং আদর্শ প্রোটিন উৎস হিসাবে এর প্রসার ও গ্রহনযোগ্যতা দিন দিনই বেড়েই চলছে। দেশে দেশে এ শিল্পের প্রসারের সাথে সাথে যুক্ত হয়েছে লক্ষ লক্ষ কৃষক, বিনিয়োগকারী, বিজ্ঞানী, পেশাজীবি, ভোক্তা ও নানা শ্রেনীর মানুষ। প্রত্যেক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ শিল্প মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অত্যান্ত ইতিবাচক প্রভাব তথা দারিদ্র বিমোচন, আয় বৃদ্ধি, জাতীয় প্রবৃদ্ধিতেবিশেষ অবদান বলিষ্ঠ ভুমিকারাখছে।

সাম্পতিক কালের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্র সর্বাধিক পরিমানতেলাপিয়া ফিলে (Fillet) আমাদানী করে থাকে চীন থেকে যা, মোট আমদানীর ৭৩ শতাংশ। তেলাপিয়া উষ্ণ অঞ্চলের মাছ (Topical Fish)  বিধায় যুক্ত রাষ্ট্রে এর উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ বিপুল পরিমান আমদানি কে নিরুৎসাহীত করার জন্য Seafood Watch নামে একটি মার্কিন গ্রুপ তেলাপিয়া উচ্চ মাত্রায় বালাইনাশক, এন্টিবায়োটিক আছে এবং চীনে Good Aquaculture Practice হচ্ছে না উজুহাতে চীনে উৎপাদিত তেলাপিয়া কে Avoid শব্দ চয়নে রেটিং করছে। কিন্তু এ ধরনের মন্তব্য মূলত ক্রমবর্ধমান চাহিদার উপর কোন রূপ প্রভাব ফেলছে না বিধায় পরবর্তীতে চীনে উৎপাদিত তেলাপিয়াকে Good Alternative এবং ইকোইডোর, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তেলাপিয়াকে The Best Choice মন্তব্য ভোক্তাদের উৎসাহিত করছে (Sky McCarthy, Published April 09, 2014, FoxNews.com) । এ থেকে স্পষ্টই প্রতিয়মান হয় যে, তেলাপিয়া সম্পর্কে এ ধরনের প্রচার নিতান্তই উদ্দেশ্য প্রনোদিত অপপ্রচার মাত্র। আমেরিকা, কানাডা, ইকোডোরের উৎপাদিত তেলাপিয়া ভালো আর অন্য সব দেশে উৎপাদিত তেলাপিয়া খারাপ এ রকম দৃষ্টিভংগির কোনরুপ বৈজ্ঞানিক ভিত্তিনেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপদ খাদ্য আইন ও বহিঃবিশ্ব থেকে খাদ্য আমদানীর ক্ষেত্রে যে ধরনের বাধা নিষেধ ও বিধিবিধান রয়েছে তা মেনেই কিন্তু রপ্তানীকারক দেশগুলো প্রতি বৎসর বিপুল পরিমান তেলাপিয়া যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানী করে আসছে। বিগত দশ বৎসরে শুধু মাত্র চীন হতে যুক্তরাষ্ট্রে তেলাপিয়া আমদানীর ক্রমবর্ধমান চাহিদা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যান্তরে একটি বিশেষ শ্রেনীকে ভাবিয়ে তুলছে। যার ফলশ্রতিতে ঐ শ্রেনীগুলোই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।

অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, ইন্টারনেটে এ ধরনের অপপ্রচারে উৎসাহিত হয়ে এবং এ ধরনের প্রচারের নির্ভরযোগ্যাতা যাচাই বাচাই না করে অসচেতনভাবে আমাদের দেশের কতিপয় সাংবাদিক উল্লেখিত গ্রুপটির সুরে সুরমিলিয়ে কিছু দৈনিক কাগজে তেলাপিয়া বিরুধী লেখা ছাপিয়েছেন, যা আমাদের জন্য অত্যান্ত আত্তঘাতি। উনারা হয়ত জানেন না যে, তেলাপিয়া শিল্পে আমাদের দেশ এখন বিশ্বে ১০ম স্থানে রয়েছে। এ শিল্পে আমাদের দেশের কৃষকের কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে, হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। দারিদ্র বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয়বৃদ্ধি ও জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে এর অবদান অনিস্বীকার্য।

তেলাপিয়ার ভারসাম্যপূর্ন পুষ্টিমান সম্পন্ন ও সুস্বাদু মাছ হিসেবে ইতিমধ্যে সমগ্র বিশ্বে গুরুত্বপূর্ন স্থান দখল করে নিয়েছে। উপোক্ত আলোচনায় এ বিষয়টি স্পষ্টই প্রতীয়মান হয় যে, বিভিন্ন দেশে উৎপাদিত তেলাপিয়া শতভাগ নিরাপদ ও মানব স্বাস্থের জন্য অত্যান্ত উপযোগী।

সাম্পতিক কালে তেলাপিয়া সম্পর্কিত ভিত্তিহীন অপপ্রচারের সত্যতা যাচাই এর জন্য মিশরে তাদের দেশে উৎপাদিত তেলাপিয়ায় বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা নিরুপনে সে দেশের ইন্টারনেশানাল লাইফস্টক রির্সাস ও ওয়ার্ল্ড ফিস সেন্টার (International livestock Research Institute and Word Fish Center)  একটি যৌথ সমীক্ষা চালিয়ে মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোন উপাদানের প্রমান পান নি।

বাংলাদেশ তেলাপিয়া ফাউন্ডেশন (Bangladesh Tilapia Foundation) ইতিমধ্যেই একরুপ একটি সার্ভে পরিচালনার জন্য ওয়ার্ল্ড ফিস সেন্টার, বাংলাদেশ মাৎস্য বিভাগ ও মৎস্য গবেষণার যৌথ উদ্যোগে পরিচালনা জন্য প্রস্তাবনা প্রস্তুত করছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকেই সহযাগীতার হাত সম্প্রসারিত করার জন্য আবেদন জানাচ্ছেন।

বাংলাদেশ তেলাপিয়া শিল্প এখন অত্যান্ত সমৃদ্ধ। ইতিমধ্যে আমরা বিশ্ব দরবারে মৎস্য উৎপাদনে পঞ্চম এবং তেলাপিয়ায় চতুর্থ স্থান দখল করে নিয়েছি। এহেন পরিস্থিতিতে আমরা এখন তেলাপিয়া প্রসেস ইন্ড্রাষ্ট্রি প্রতিষ্ঠা তথা রপ্তানির দিকে এক পা বারিয়েছি এমতাবস্থায় তেলাপিয়া সম্পর্কিত এরুপভীতিহীন অপপ্রচার আমাদের এ শিল্প এমনকি অর্থনীতির উপর অত্যান্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। জাতীয় স্বার্থ ও মানুষের নিরাপদ প্রোটিন চাহিদা তথা মানব কল্যানকে সামনে রেখে আসুন সত্যের পথে আমাদের হিতকে আরো সমৃদ্ধ করি এবং সবাই এ শিল্পকে এগিয় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই।

 

ড. মোহাম্মদ গোলাম হুসাইন

প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ তেলাপিয়া ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।

User Comments: